১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে রক্তকরবী নাটকটির মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে। আর প্রতিবারের মতো এবারো এ নাটকটির ডিরেকশন দিচ্ছেন আতাউর রহমান। এ নাটকটি ছাড়াও তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে লিখেছেন সাদেক সামি।
এবারে রক্তকরবী নাটকটির কতোতম মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে?
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মহিলা সমিতিতে রক্তকরবী নাটকটির যে মঞ্চায়ন হবে সেটি ৭৮তম মঞ্চায়ন। এবারের মঞ্চায়ন একটু অন্যরকম হবে।
রক্তকরবীর এতোগুলো মঞ্চায়ন পার করে এলেন, কেমন লাগছে?
আসলে আধুনিকতার শেষ নেই। অধুনিক, তারপর উত্তর আধুনিক। প্রতিনিয়তই এটি নতুন রূপ লাভ করে। তাই যতোবারই রক্তকরবীর মঞ্চায়ন হয় প্রতিবারই এটি আরো নতুনত্ব লাভ করবে।
রক্তকরবী নাটকটি এতো দর্শক সফল হওয়ার পেছনে কি কারণ বলে আপনি মনে করেন?
অনেক কারণেই নাটকটি এতো সাড়া ফেলতে পেরেছে বলে মনে করি। তার মধ্যে প্রথমত এটি রবীন্দ্রনাথের নাটক বলে। দ্বিতীয়ত নাটকটির ডায়ালগ। তৃতীয়ত নাটকটি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় মঞ্চায়িত করছে বলে। চতুর্থ নাটকটি দর্শককে ঠিকমতো কমিউনিকেট করতে পারে। এছাড়াও নাটকটি সাধারণের জীবনের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মিশে যেতে পারে আর নাটকটির কাহিনী কিছুটা রূপক চরিত্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।
রক্তকরবী ছাড়া আর কি মঞ্চায়ন করবেন?
রক্তকরবী ছাড়াও আমরা ত্রয়লাস ও ক্রেসিদা নাটকটিও নিয়মিত মঞ্চায়ন করবো। এছাড়াও শচীন সেনগুপ্তের সিরাজউদ্দৌলা নাটকটিও এ বছরই মঞ্চে আনবো। আসলে অনেক দিন পর আবারো সিরাজউদ্দৌলা নাটকটি মঞ্চে আনার মূল কারণ হলো সিরাজউদ্দৌলা বাংলার ট্র্যাজিক হিরো। স্বাধীনতার সিম্বল। তাকে মনে করতেই নতুন করে নাটকটি মঞ্চে আনা।
এছাড়াও আপনার ব্যক্তিগতভাবে মঞ্চে কোনো নাটক আনার সম্ভাবনা আছে কি?
রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্র অবলম্বনে সৈয়দ শামসুল হকের লেখা বাংলার মাটি ও বাংলার জল নাটক দুটি প্রথমবারের মতো আমার ডিরেকশনে মঞ্চে আনার কাজ চলছে। বাংলার মাটি নাটকটি ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ শিয়ালদহে নিজ জমিদারি দেখাশোনার জন্য যে সময়টা কাটিয়েছেন তার কাহিনী নিয়েই নাটকটি তৈরি হচ্ছে। পরে রবীন্দ্রনাথ তার শিয়ালদহের সময়কার জীবন নিয়ে ছিন্নপত্র লিখেছিলেন।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।