দুটি জেনারেশন। কিছু অমিল থাকবেই। তার ওপর যদি দুটি ভিন্ন কালচারে বেড়ে ওঠে তাহলে এটা আরো সত্যি।
ক্যারিয়ার সফল করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় মানুষ নোঙর ফেলে। ভিন্ন পরিবেশে গেলে কিছু সমস্যা হয়। নিজেকে পরিবর্তিত স্থানে মানিয়ে নিতে কিছু সময় লাগে।
এ ধরনের জীবনের কিছু খণ্ড বিষয় নিয়ে নির্মিত মুভি হলো দি নেমসেক। ইনডিয়ান বাংলাভাষী অশোক গাংগুলি ট্রেনে জামসেদপুর যাচ্ছেন দাদার বাড়িতে। ট্রেনে পরিচয় ঘোষ নামে এক বৃদ্ধের সঙ্গে। তিনি অশোককে ভ্রমণের জন্য উৎসাহ দেন। এ সময় তিনি নিকোলাই গগলের একটি বই পড়ছিলেন। হঠাৎ ট্রেন দুর্ঘটনায় পতিত হয়। বেচে যান অশোক। পরে তিনি আমেরিকায় চলে যান এবং সেখানে সেটেল্ড হন। ফিরে আসেন ১৯৭৭ সালে। বিয়ে করেন ক্লাসিকাল সিঙ্গার অশিমাকে এবং তারা ফিরে যান নিউ ইয়র্কে। সেখানে যদিও কিছু কালচারাল ভিন্নতা রয়েছে তবু তারা চেষ্টা করেন তাল মিলিয়ে চলতে। এ সময় দুজনের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় যদিও তারা সময় কম পেতো। তাদের একটি ছেলে সন্তান হয়। নাম রাখা হয় গগল। এটা তার বাবার দেয়া নাম। এটা তার ডাক নাম। আর ভালো নাম হলো নিখিল। এটা বাংলা কালচার। এরপর তাদের আরেক মেয়ে হয়। নাম সনিয়া। গগল আমেরিকান টিনএজার। বড় হচ্ছে আমেরিকান কালচারে। পড়ছে আর্কিটেক্ট নিয়ে। গগল ম্যাক্সাইনের প্রেমে পড়ে এবং স্যাপ্রাইনের ফ্যামিলির সঙ্গে ঘনিষ্ট হয়ে পড়ে। এদিকে মারা যান গগলের বাবা। এ সময় গগল তার কালচারাল আইডেন্টিটি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ম্যাক্সাইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপর গগল মৌসুমি নামে এক বাঙালিকে বিয়ে করে। মৌসুমিও বড় হয় আমেরিকান কালচারে। তাদের সুখ বেশি দিন টেকেনি। কারণ মৌসুমির অন্য এক ফ্রেন্ডের সঙ্গে অ্যাফেয়ার। গগল শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারে তার কালচার এবং পারিপার্শিক অবস্থাই তাকে শান্তি দেবে এবং গগল ও মৌসুমি বুঝতে পারে আসলে কেউই পারফেক্ট নয়। এর পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় উঠে এসেছে যেমন, যারা দেশের বাইরে থাকেন তাদের নিকট আত্মীয় মারা গেলেও আসতে না পারা। তাছাড়া পশ্চিমি দেশে বড় হলেও ফ্রেন্ডের বাবা-মাকেও নাম ধরে ডাকা, যা আমাদের এখানে কল্পনাও করা যায় না। দি নেমসেক মুভিটি ঝুম্পা লাহিড়ীর উপন্যাস থেকে তৈরি। পরিচালনা করেছেন মিরা নায়ার। এটা ড্রামা নির্ভর মুভি। মুভিটি রিলিজ হয় ৯ মার্চ ২০০৭-এ আমেরিকায়। এতে অভিনয় করেছেন ইরফান খান, টাবু, ক্যাল পেন। এ পর্যন্ত মুভিটি দুটি নমিনেশন পেয়েছে।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।