দুই শতাধিক মুভির সফল অভিনেতা আমিন খান। ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পাবে তার অভিনীত মুভি ভয়ঙ্কর হামলা। যা সময়ের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে। সম্প্রতি ভয়ঙ্কর হামলা মুভি এবং সমসাময়িক ও ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমিন খানের সঙ্গে কথা বলেছেন বাবুল হৃদয় ও ছবি তুলেছেন শরীফ সারওয়ার।
ভয়ঙ্কর হামলা মুভিতে আপনার চরিত্রটি কেমন?
আদর্শবান পিতার সন্তান। তার আদর্শকেই ফলো করে চলতাম। এক দিন ঘটনাক্রমে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ছোট বোনকে বাচাতে আমার হাতে পুলিশ খুন হয়। আমাকে ধরিয়ে দিতে বাবাও পুলিশকে সহযোগিতা করেন। এ নিয়ে বাবার সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব বাধে। এক সময় নানা নাটকীয়তায় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠি।
সোসাল অ্যাকশনধর্মী এ মুভিটি বর্তমান সময়ে দর্শক কতোটা গ্রহণ করবে বলে মনে করেন?
আমাদের দেশে রোমান্টিক মুভি দর্শক যেভাবে নিয়েছে সোসাল অ্যাকশন মুভিও একইভাবে নিয়েছে। ভয়ঙ্কর হামলা সময়ের উপযোগী করেই নির্মাণ করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, অডিয়েন্স এ মুভিটিও গ্রহণ করবে।
অনেকেই বলেন, প্রডিউসাররা হাতেগোনা কয়েকজন শিল্পীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?
এটা জিম্মি বলা আসলে ঠিক হবে না। ধরেন বছরে আমাদের দেশে ৬০-৭০টি মুভি তৈরি হয়। আমাদের মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন আর্টিস্ট। কাজের বাড়তি চাপের কারণেই শেডিউল মেলাতে পারেন না। অনেক সময় দেখা যায়, বিশেষ রিকোয়েস্টে ইমোশনের কারণে কিছু কাজ করে দিতে হয়। তখন দেখা যায় অভিনয় ভালো হয় না। কাজ করা উচিত প্রফেশনাল। প্রচুর শিল্পী সঙ্কটের কারণে এমন হচ্ছে। জিম্মি শব্দটা অন্যরকম শোনায়।
শিল্পী সঙ্কট কিভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় বলে মনে করেন?
আগে যেমন প্রডিউসার ডিরেক্টর নতুনদের সময় দিয়ে তৈরি করে নিতো। এখন সেই জিনিসটি কম দেখা যায়। শিল্পী তৈরির জন্য যেমন মন-মানসিকতা দরকার এখন তা নেই। আগে দর্শকদেরও এ ক্ষেত্রে একটা ভূমিকা ছিল, বর্তমানে নেই। সরকারের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নতুনদের এসে নতুনের মতো কাজ করা যাবে না, টোটাল তাকে জেনে আসতে হবে। এ জন্য খুব দরকার একটি ভালো ইন্সটিটিউট। সরকারের ব্যাপক সহযোগিতা। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। মেধার খুব অভাব রয়েছে। সব ক্ষেত্রে মেধাবী লোক থাকতে হবে। আমাদের মুভি ৩০ বছর আগেরও নেই। ২০০৮ সালে এসে যেখানে থাকা উচিত ছিল সেখানেও নেই। শিক্ষাকে বলা হয় জাতির মেরুদণ্ড। ছোট সময় থেকে পড়ে আসছি, এখন বুঝি আসলে শিক্ষাটা কতো জরুরি। শিক্ষিত মেধাবী এ সময়ে খুবই দরকার। আমাদের কাজের দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্ল্যান নেই। আমাদের এতো বড় ইন্ডাস্ট্রি যেখানে বছরে কয়েকশ কোটি টাকা ইনভেস্ট হয় সেখানে মুভি মার্কেটিংয়ের জন্য কোনো নতুন পরিকল্পনা নেই। সেই মান্ধাতা আমলের মতো দুই-একটি পত্রিকায় ছোট বিজ্ঞাপন দিয়ে হচ্ছে প্রচার। আমাদের এমন মার্কেটিং করা উচিত যেন মুভির মেসেজ প্রতিটি ঘরে পৌছে যায়। বুকিং এজেন্টদের দিকে না চেয়ে মার্কেটিংয়ে লোকবল নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। মুভি একটি পণ্য অথচ মার্কেটিংয়ে লোক নেই। এ দিকটা ডেভেলপ করা উচিত।
আমাদের ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা কেমন?
অবশ্যই ভালো বলবো। নতুন এমডি ও টাস্ক ফোর্স আসার পরে এখন একটা নতুন দিগন্ত দেখতে পাচ্ছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অগোছালো থাকলেও আশা করি আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
নতুন কি নিয়ে ব্যস্ত?
শাহীন সুমনের সমাধি মুভিতে কাজ করছি। ভুল সবই ভুলসহ বেশ কিছু মুভির শুটিং চলছে। আরো নতুন কিছু কাজের কথা চলছে।
আগামীর ভাবনা কি?
নিয়মিত কাজ করে যেতে চাই। অভিনয়ের মধ্যেই বেচে থাকতে চাই।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
January 4th, 2008 at 11:28 pm
Hi, this is a comment.