বাংলাভিশনে আজ প্রচারিত হবে ধারাবাহিক নাটক স্বপ্নচূড়ার ৫০তম পর্বসাম্প্রতিক সময়ে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত সিরিয়াল ও মেগাসিরিয়ালের পর্ব সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা বেশ লক্ষ্য করার মতো। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কোনো সিরিয়াল পপুলার হলে নাটকের পরিচালক ও প্রযোজককে বলছেন এর পর্ব সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য। ফলে ২৬ পর্বের সিরিয়ালটি হয়ে যাচ্ছে ৫২ কিংবা ১০৪ পর্ব! এতে করে মূল যে ক্ষতিটি হচ্ছে তা হলো পপুলার সিরিয়ালটির কোয়ালিটি আগের তুলনায় হয়ে পড়ছে খারাপ। দর্শকরাও হচ্ছেন ত্যক্ত-বিরক্ত। অথচ চ্যানেলগুলোর এসব নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা স্পন্সর কম্পানির কাছ থেকে নির্দিষ্ট চাঙ্কে নাটকটি প্রচারিত হওয়ার জন্য যে অর্থ পাচ্ছেন, তাতেই খুশি। নাটকের মান নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, একজন স্ক্রিপ্টরাইটার যে কয় পর্বের ওপর নাটকটি লেখা তৈরি করছেন তাই-ই মূল থিম। একে পরে টেনে বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সেই স্ক্রিপ্টরাইটার কিন্তু তার মূল থিম থেকে সরে আসতে পারেন না। বরং থিম ঠিক রেখে ডায়ালগ ও নতুন ক্যারেক্টার নাটকে এন্ট্রি করার ফলে নাটকটি এর স্বাভাবিক প্রবহমানতা হারিয়ে ফেলে ও হয়ে পড়ে একঘেয়ে। আর দর্শকরা কখনোই কোনো একঘেয়ে নাটক দেখতে চান না। এতে দারুণ জনপ্রিয় একটি নাটকও হয়ে পড়ে দর্শকবিমুখ।
উদাহরণস্বরূপ সাম্প্রতিক সময়ে প্রচারিত বাংলাভিশনে ধারাবহিক নাটক স্বপ্নচূড়া, এনটিভিতে নীড়, শান্তকুটির, চ্যানেল আইতে অচেনা আধার, আরটিভিতে আনন প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য। ফলে দারুণ জনপ্রিয় এসব নাটকও এখন একঘেয়েমিতে আক্রান্ত বলে অনেক দর্শক আমাদের জানিয়েছেন।
দেশে এখন স্যাটেলাইট চ্যানেলের সংখ্যা অনেক। শিগগিরই আরো চ্যানেল আসছে। সুতরাং সাধারণ দর্শকদের রিমোটে চয়েস থাকছে অনেক। অন্তত দর্শকদের ভালো লাগা যাতে বিরক্তির দিকে না যায় সেদিকে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের নজর রাখাটা জরুরি।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।