আগে আর্টিস্ট দিয়ে নাটক চেনা যেতো এখন ডিরেক্টর দিয়ে চেনা যায় : মাসুদ হাসান উজ্জ্বল
তার মধ্যে সব সময় একটা ঘোর কাজ করে। এ ঘোর থেকে কখনো গান, কখনো বা রঙ-তুলি নিয়ে খেলা। এখন তার নতুন ঘোর হচ্ছে নাটক নিয়ে নিত্য-নতুন এক্সপেরিমেন্ট। এ এক্সপেরিমেন্টের ফসল হচ্ছে অল্প কিছু দিনের মধ্যে শিল্পগুণ সমৃদ্ধ ও দর্শকপ্রিয় বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্ম। মিডিয়ায় তার অল্প কদিনের বিচরণে এরই মধ্যে তিনি বোদ্ধা নির্মাতা মহলে বেশ প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হন। সম্প্রতি নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল এসেছিলেন যায়যায়দিন চে কাফেতে। তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন মনজুর জিয়া ও ছবি তুলেছেন শরীফ সারওয়ার
নাটক পরিচালনায় আগ্রহী হলেন কিভাবে?
আমি আদৌ আগ্রহী হইনি। আমি আসলে কখনো কোনো কাজে আগ্রহী ছিলাম না। যখন যা মনে হয়েছে তখনই সেটা নিয়ে ভাবছি। তবে একটা কথা ঠিক, যখন যে কাজ শুরু করি তখন সেটা খুব ভালোভাবে শেষ করার চেষ্টা করি। নাটক পরিচালনার বিষয়টি আমার একেবারে হঠাৎ করেই। পরিচালনার কাজটি শুরু করার পর এটাকে নিয়েই এখন আমার সব ভাবনা। যতোদিন এ মাধ্যমে থাকবো ততোদিন দর্শকদের ভালো কিছু কাজ উপহার দেয়ার চেষ্টা থাকবে।
আমরা জানি আপনি গানও করেন এবং আপনার একটি ব্যান্ড দলও রয়েছে।
গানের বিষয়টা আমার একেবারে স্কুল লাইফ থেকে। আমার স্কুল ও কলেজ জীবন কেটেছে খুলনায়। সেখানে থাকাকালীন আমি ব্যান্ড সঙ্গীতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। তবে আমার গানের জগতে আসার বিষয়টা অনেকটা রাজনৈতিকভাবে। আমি মার্কসবাদী দর্শনে নিজেকে নিয়োজিত করি। তাই রাজনৈতিক চেতনাটা থেকে গানে অনেকটা জড়িয়ে পড়া। আমার যে ব্যান্ডদল রয়েছে সেটির নাম মেঘদল। এ ব্যান্ড দল গড়ে তোলা হয়েছে মূলত সোশাল কমিটমেন্টের জায়গা থেকে।
গান এবং নাটক দুটো কি এক সঙ্গে চালিয়ে যাবেন?
আমি আগেই বলেছি না, আমি সব সময় একটা ঘোরের মধ্যে থাকি। এ ঘোর থেকে আমার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়া। তবে একটা কথা ঠিক, নাটকের কাজ শুরুর পর গানের প্রতি আমার এবং ব্যান্ডের সব সদস্যকে সময় একটু কম দেয়া হচ্ছে। তারপরও নাটকের কাজ শেষ করার পর আমরা চেষ্টা করি গান নিয়ে বসার।
এখন পরিচালনায় যারা আসেন দেখা যায় তারা কাউকে না কাউকে অ্যাসিস্ট করে। কিন্তু আপনার ব্যাপারটা একেবারে ভিন্ন। সরাসরি পরিচালনায় আসার এ সাহসটি কোথায় পেলেন বা কাকে দেখে অনুপ্রাণিত হলেন?
আমার আজ পর্যন্ত কখনো কোনো কিছুতে সাহস করা বিষয়টি আসেনি। আমার যখন মাথায় যেটা এসেছে সেটা নিয়ে ভাবার চেষ্টা করেছি। কারণ আমার বেশ কিছু ছবি আকার পর একঘেয়েমি লাগার পর নাটক পরিচালনায় আসা। আমার কাছে মনে হয় এখন আমার ছবি আকার মাধ্যমটা চেঞ্জ হয়েছে। আগে দেখা যেতো রঙ-তুলি দিয়ে ছবি একেছি, আর এখন আকছি একটু ভিন্নভাবে।
নতুন ডিরেক্টর হিসেবে আর্টিস্টদের নিয়ে শেডিউল সমস্যা বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়েছিলেন কি?
এটা তো প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি। এখনো করছি। আসলে এদের তোমরা যারা অপরাধ করছো, প্রডিউসরের টাকা নষ্ট করছো এবং ডিরেক্টরের শেডিউল সমস্যা করছো এ জাতীয় উপদেশমূলক কথা বলে আমাদের দেশের আর্টিস্টদের বিবেক জাগ্রত করা যাবে না। আমি এসব আর্টিস্টকে নিয়ে শুধু এটুকু বলবো, তাদের সংস্কৃতির বিষয়ে পড়াশোনা করে সংস্কৃতির ভিতটাকে শক্ত করতে হবে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ আর্টিস্টের গোড়ায় গলদ আছে। বিভিন্ন মিডিয়া এবং ডিরেক্টরদেরও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। মিডিয়া ও ডিরেক্টরের কথা এজন্য বললাম, দেখা যায়, কোনো নতুন ছেলে বা মেয়েকে আমরা রাতারাতি স্টার বানিয়ে দিই যা আসলে এতোটা সহজ কোনো বিষয় নয়। আমি বলতে চাচ্ছি, যে কোনো নতুন ছেলে বা মেয়ে যেন তার কাজের মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়।
নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেন?
নাটক বানাই আসলে ঘোর থেকে। আমি লিখতে বসলে চিন্তা করি কি কি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেবো। কিন্তু আমি ঘোর থেকে দেখি কখনো আর্ট ডিরেকশনে গুরুত্ব দিচ্ছি, কখনোবা অভিনয়ে আবার কখনোবা অন্য কিছুতে। মাঝে মধ্যে কিছু হেরফের হয়। কারণ আমি কখনো পূর্ব পরিকল্পনা থেকে কোনো কাজ করি না। আমি কাজ শুরুর পর সেটি পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে আগাতে থাকে। আমি কখনো নিজেকে কারখানা মনে করি না। আমার ক্ষেত্রে এমনও হয়েছে যে, শুটিং করতে গেছি ওই দিন লোকেশনটা আমার ভালো লাগেনি তাই আমি শুটিং প্যাকআপ করে চলে এসেছি।
এ ক্ষেত্রে প্রডিউসর থেকে কি কোনো সমস্যা হয় না। কারণ এতে তো প্রডাকশন ব্যয় বেড়ে যায়?
প্রডাকশন ব্যয় বেড়ে যায় এটা সত্য। তারপরও আমার প্রডিউসর আমার কাজের ধরনটা বুঝে বিধায় এ পর্যন্ত আমার সঙ্গে আমার প্রডিউসরের কোনো সমস্যা হয়নি। আমার সব নাটকের ক্ষেত্রে বাজেটটা হয় নাটকটি পুরোপুরি তৈরি হওয়ার পর। তাই আমি বলবো আমার প্রডিউসরের মতো যদি অন্যরাও হতো তাহলে টিভি মিডিয়ার চেহারাটাও চেঞ্জ হয়ে যেতো।
আপনার প্রডিউসরের কথা না হয় বুঝলাম। কিন্তু বেশির ভাগ প্রডিউসরের অভিযোগ তারা চ্যানেল থেকে সেভাবে বাজেট পান না।
এটা অনেকাংশে ঠিক। একটা প্রডাকশন হাউস তো বিজনেস করার জন্যই আসে। তবে এখন চ্যানেলে ভালো প্রডাকশন নিয়ে অনেক ফাইট হয়। এ ক্ষেত্রে চ্যানেলগুলোর উচিত প্রডাকশনের মান বুঝে ডিসিশন নেয়া।
এখন কি কি কাজ করছেন?
সামনের ভ্যালেনটাইনস ডে উপলক্ষে একটি নাটকের কাজ শুরু করবো খুব শিগগিরই। নাটকটির নাম ঘোর লাগা ম্যাটিনি। এছাড়াও ১৩০ পর্বের একটি সিরিয়াল লেখার কাজ শুরু করেছি। এখনো নাম ঠিক করা হয়নি। আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যে এটির কাজও শুরু করতে পারবো।
আমাদের নাটকের কোনো চেঞ্জ এসেছে কি?
চেঞ্জ তো অবশ্যই এসেছে। দেখা গেছে, আগে আর্টিস্ট দিয়ে নাটক চেনা যেতো আর এখন ডিরেক্টর দিয়ে চেনা যায়।
নতুন তো অনেকেই কাজ করছেন। তাদের মধ্যে নিজেকে আলাদাভাবে চেনানোর প্রচেষ্টা কি?
এ বিষয়টাতে আমার ঘোরতর আপত্তি। আমার মতে সবচেয়ে ভালো কাজ যে করছে সে আলাদা আর সবচেয়ে বাজে কাজ যে করছে সেও আলাদা। আর গতানুগতিক যে করছে সেও তো আলাদা। আমি আসলে কোনো ফরমাটে বিশ্বাস করি না। যখন যেভাবে মন চায় তখন সেভাবেই কাজ করে যাবো।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
No tag for this post.
Evergreen Bangla Video 
Post Your Comments