অনুকূল পরিবেশ নেই মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে : ইলিয়াস কাঞ্চন

সন্ধানী কথাচিত্রের ব্যানারে নির্মিত হয়েছে নতুন মুভি বাবা আমার বাবা, পরিচালনা করেছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। ভেজা চোখ, বাদশা ভাই, বেদের মেয়ে জোসনার মতো অসংখ্য ব্যবসা সফল মুভির সফল অভিনেতা হলেও ডিরেকশনে তিনি এই প্রথম এলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার ডিরেকশনে আসাটাকে নির্মাতারা দেখছেন পজিটিভ হিসেবে। সম্প্রতি বাবা আমার বাবা মুভিসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে কথা বলেছেন বাবুল হৃদয়।

বাবা আমার বাবা মুভিতে ডিরেক্টর হিসেবে এলেন কিভাবে?
আমার একটা প্রডাকশন হাউস আছে, সেখান থেকে সর্বশেষ প্রডাকশন ২০০০ সালে মুন্না ভাই মুভিটি রিলিজ হয়। মুভিটি রিলিজের কিছুদিন আগ থেকেই অশ্লীল মুভির ব্যবসা শুরু হয়। তাই মুভিটি তেমন ব্যবসা করতে পারেনি। এরপর দীর্ঘ সাত বছর আর প্রডাকশনে আসিনি। অনেকদিন ধরেই সুপ্ত ইচ্ছা ছিল ডিরেকশনে আসবো। নানা ব্যস্ততার কারণে এবং প্রডিউসার যারাই আসেন তারা ওই ধরনের দৃশ্য না হলে চলবে না- এসব শুনে চিন্তায় পড়ে গেলাম। এদিকে মুন্না ভাই মুভির ১৬ লাখ টাকা ছিল আমার কাছে। ধার দিয়ে বাকি সাত লাখ টাকা দিয়ে আশুলিয়ায় জমি কিনি। হাত খালি। অস্ত্রের মায়া নামে একটি গল্প লিখেছিলাম। সে সময়ের জন্য ওটা ছিল। একজন প্রডিউস করতে চেয়েছিল। এরপর চিন্তা করেছি মগবাজারের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে হলেও কাজ শুরু করবো। এ রকম একটা চিন্তা-ভাবনা করছিলাম। ভালো গল্প খুজছিলাম। একদিন একটি ইংলিশ মুভি দেখলাম। খুব ভালো লাগলো। বিষয়টি নিয়ে অনেকের সঙ্গে ডিসকাস করলাম। ফ্ল্যাটও বিক্রি করবো এমন চিন্তা-ভাবনা করছি। এমন সময় আমার এ মুভির প্রডিউসার অর্থাৎ বাবা আমার বাবার প্রডিউসার আমার শুটিং দেখছেন। ভক্ত হিসেবে কথা বললেন। এক সময় প্রপোজাল নিয়ে এলেন- আপনি যদি আমার মুভিটি পরিচালনাসহ সবদিক দেখাশোনা করেন তবে আমি প্রডিউস করবো। না হয় আপনাকে প্রাধান্য দিয়ে গল্প লিখুন, অভিনয় করবেন। আমি মন ঠিক করে জানালাম। আমার কাছে একটি গল্প আছে। তাদের গল্প ভালো লেগেছে। কাজ শুরু করলাম। বছরে যে কয়েকটি মুভি বানাতে পারেন বানাবেন। এই তো এভাবে মুভিতে ডিরেকশনে ইন হলাম।

মেকিংয়ের দিক থেকে কেমন হয়েছে বাবা আমার বাবা?
আমার ছেলের মুখে শুনেছি এর চেয়ে ভালো মুভি আমাদের দেশে হতে পারে না। আমার স্ত্রী জাহানারা কোনো বিষয়ে মতামত নিতে গেলে সত্যটাই বলতো। আমার ছেলে ও মেয়েটাও তাদের মায়ের মতো। ভালোকে ভালো, খারাপকে খারাপ বলার সৎ সাহস ওদের আছে। ইন্ডাস্ট্রির যারা দেখেছে সবাই ভালো বলেছে। সেন্সর বোর্ডের সবাই মুভিটির প্রশংসা করেছেন। মেকিংয়ের ক্ষেত্রে আমি যেভাবে চেয়েছি, পেয়েছি।

এ মুভিতে ডিরেকশনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন? আপনার ক্যারেক্টার কি?
মুভিতে আমি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসার। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া একটি অপারেশনে যাই। সেখানে জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক বাবা-মায়ের সন্তান নিখোজ হয়। চাকরি চলে যায়। এর আগে একজন অভিমানে চাকরি ছেড়ে দেয়। ওই লোকটি আমাকে খারাপ পথে নিয়ে যায়। একটি বাচ্চার বডি গার্ড হিসেবে কাজ করি। এক সময় বাচ্চাটি কিডন্যাপ হয়। শেষে পরিচয় হয় ওই বাচ্চাটি আমার হারিয়ে যাওয়া সন্তান।

মুভিটি নিয়ে আপনার আশাবাদের কথা বলবেন?
নিজের জিনিসের প্রতি আশাবাদ তো থাকেই। আল্লাহ যা রেখেছেন তাই হবে। মানুষ আশা করে, বাস্তবে আল্লাহ দেখবেন। আমি আমার দীর্ঘ অভিনয় জীবনে আমার অনেক মুভি দেখেছি- চলবে না, চলবে না, এমন মুভিগুলো আস্তে আস্তে সুপার হিট হয়েছে।

ডিরেকশনে নিয়মিত থাকবেন?
মুভি বানানো খুব একটা কষ্টের কাজ যা চিন্তাও করা যায় না। আমাদের দেশে ডিরেক্টরকেই সবকিছু করতে হয়। আমি শিল্পী, অভিনয় করাই আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের।

পরিচালনায় এসে কোনো প্রবলেম ফিল করেছেন?
মুভি বানানোর অনুকূল কোনো পরিবেশ নেই। শিল্পীরা শেডিউল ঘাপলা করেন। এফডিসির লাইট-ক্যামেরা পেতে হলে ঘুষ দিতে হয়। পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন শিল্পী। তাদের আচরণে অতিষ্ঠ। এদের কাছে প্রডিউসররা জিম্মি হয়ে গেছেন। ভালো কোনো স্পট নেই। আমি একজন পুরনো আর্টিস্ট। দাপটের সঙ্গে কাজ করেছি। আমার বেলায় যদি এ অবস্থা হয় তাহলে অন্যদের কি ঘটে বুঝতেই পারছেন।

বর্তমান সেন্সর বোর্ড সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?
আমাদের মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়া নির্ভর করে তাদের মন-মানসিকতার ওপর। বাবা আমার বাবা মুভিতে একটি দৃশ্যে একটি মেয়ের নাভি দেখা যায়, যা থাকাটা যুক্তিযুক্ত। ফ্রেমে শুধু নাভি দেখানো হয় না। সেখানে অবজেকশন। গুণ্ডারা রাইফেল ঠেকিয়ে আক্রমণ করেছে সেখানেও অবজেকশন। অথচ এর চেয়ে খারাপ দৃশ্যের মুভি এখনো হলে চলছে। সেটা তাদের মন-মেজাজ ব্যক্তিকেন্দ্রিক। স্যাটেলাইটের এ যুগে মুভির মান নির্ণয় করে সেন্সর হওয়া উচিত।

টোটাল ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কি?
আমি খুশি এই ভেবে যে, সুস্থ ধারা ফিরে এসেছে। আমাদের এমডি এ কৃতিত্বের দাবিদার। পাশাপাশি ঘুষ দিয়ে এখনো কাজ করতে হয়। তালা খুলে দিতে তাদের জন্য খাবার দিতে হয়।

নতুন কোনো কাজ করছেন?
মায়ের স্বপ্ন নামে একটি মুভি নির্মাণ করছি। ওয়াকিল আহমেদের কে আমি মুভিতে অভিনয় করছি। বেশকিছু কাজ নিয়ে কথা হচ্ছে।

সূত্রঃ যায়যায়দিন।

Bangla Video Tags: ,

Related Bangla Video Posts:

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

Bangla Video : Incoming search terms

  • ভালো মুভি (1)
Free Membership. Join Now!